প্রশ্ন
বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কেউ মারা গেলে হাফেজ সাহেব ডেকে এনে কুরআন খতম করিয়ে টাকা দেওয়া হয়। জানতে চাচ্ছি, এটি কি জায়েয?
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا و مصليا و مسلما
ঈসালে সওয়ারেব উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করিয়ে বিনিময় দেয়া নেয়া নাজায়েয। হাদিস শরিফে এসেছে, আব্দুর রহমান বিন শিবল (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে,
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ، وَلَا تَغْلُوا فِيهِ، وَلَا تَجْفُوا عَنْهُ، وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ، وَلَا تَسْتَكْثِرُوا بِهِ.
তোমরা কুরআন পড়। তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না। এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ো না। এবং কুরাআনের বিনিময়ে কিছু ভক্ষণ করো না। এবং এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধি করো না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৫৫২৯০
আরেক বর্ণনায় এসেছে, হযরত ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী কারীম (সা.)-কে বলতে শুনেছি,
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ،وَاسْأَلُوا اللهَ بِهِ؛فَإِنَّ مِنْ بَعْدِكُمْ قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ بِهِ.
‘তোমরা কুরআন পড়ো এবং বিনিময় আল্লাহ তাআলার কাছে চাও। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে চাবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৯৯১৭)
অন্য আরেক বর্ণনায় এসেছে তাবেয়ী যাযান (রাহ.) বলেন,
مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ يَأْكُلُ بِهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ عَظْمٌ لَيْسَ عَلَيْهِ لَحْمٌ.
যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে মানুষ থেকে এর বিনিময় গ্রহণ করে সে যখন হাশরের মাঠে উঠবে তখন তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না। শুধু হাড্ডি থাকবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদিস: ৭৮২৪)
তাই ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে বিনিময় দিয়ে কুরআন খতম করালে বিনিময় দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের গুনাহ হবে। এবং এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির কোনো সওয়াব হবে না।
-আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৪১; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৬
আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
و الله تعالى أعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم