প্রশ্ন
আমার এক বন্ধু বলল, বিয়ের আগে যে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করা হয় তা বৈধ। কারণ, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) গায়ে হলুদ লাগিয়েছিলেন। জানতে চাচ্ছি, তার কথা কতটুকু সঠিক?
উত্তর
بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما
বিয়ের আগের দিন গায়ে হলুদের আয়োজন করা হিন্দুয়ানি রীতি নীতির অন্তর্ভুক্ত। কাজেই কোনো মুসলমানের জন্য এ জাতীয় আয়োজন করা বৈধ হবে না। তাছাড়া রাসূল (সা.) বিজাতীয়দের রীতি নীতি অনুসরণ করাকে কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন,
من تشبه بقوم فهو منهم
‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ [সুনানে আবু দাউদ ২/৫৫৯]
যারা বলে থাকে যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) হলুদ লাগিয়েছেন, তারা মূলত তার ব্যাপারে অপবাধ দিয়ে থাকে। কারণ, যে কাজটি নিষিদ্ধ তা একজন সাহাবী কখনই করতে পারেন না। তবে যে হাদিসের বরাতে উক্ত কথা বলা হয়ে থাকে তা নিম্নে উল্লেখ করা হল,
‘আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রা.) যখন মদিনায় আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা‘দ ইবনু রাবী‘ আনসারী (রা.)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন জুড়ে দিলেন। সা‘দ (রা.) তার সম্পদ ভাগ করে অর্ধেক সম্পদ এবং দু‘জন স্ত্রীর যে কোন একজন নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘আবদুর রহমানকে অনুরোধ করলেন। তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহ্ আপনার পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে এখানকার বাজারের রাস্তাটি দেখিয়ে দিন। তিনি মুনাফা হিসেবে কিছু ঘি ও পনির লাভ করলেন। কিছুদিন পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তার দেখা হল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তার গায়ে ও কাপড়ে হলুদ রং-এর চিহ্ন দেখতে পেয়ে বললেন, হে আবদুর রাহমান, ব্যাপার কি! তিনি বললেন, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তাকে কী পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, তাকে খেজুর বিচির পরিমাণ সোনা দিয়েছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি বকরি দিয়ে হলেও ওয়ালীমাহ করে নাও।’ [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৩৭]
বর্তমানে প্রচলিত গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করা হয় বিয়ের আগে। আর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর গায়ে যে হলুদ লেগে ছিল তা বাসর রাতের পরে। এ থেকেই বুঝা যাচ্ছে যে, তা প্রচলিত গায়ে হলুদ ছিল না এবং তিনি স্বেচ্ছায় গায়ে কোনো হলুদ লাগাননি। বরং উক্ত হলুদ তার নববধূ লাগিয়েছিলেন। বাসরের কারণে তার গায়ে লেগেছিল। হাদিসের ব্যাখ্যা থেকে এমনটিই বুঝা আসে। আল্লামা আইনি (রহ.) বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেন,
إِن ذَلِك علق من ثوب الْمَرْأَة من غير قصد
‘উক্ত হলুদ অনিচ্ছায় তার স্ত্রীর শরীর থেকে তার গায়ে লেগেছিল।’ [উমদাতুল কারী ১১/১৬৩]
কাজেই উক্ত হাদিস দ্বারা গায়ে হলুদের বৈধতা সাব্যস্ত করা মূর্খতা এবং একজন সাহাবীর উপর অপবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
و الله تعالى أعلم بالصواب
وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم